১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


শিরোনাম :
  নন্দীগ্রাম পুরাতন বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ঘড় নির্মান       ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরে মসজিদে প্রেমিকা নিয়ে জনতার হাতে আটক ইমাম উদ্ধার করেছে পুলিশ          প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার পরিবারের সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত       মানবসেবায় নিউ জেনারেশ ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন       বিনামূল্যে আইনগত সহায়তার বিষয়টি সরাসরি গ্রামাঞ্চলে প্রকাশ পাচ্ছে       নন্দীগ্রামে স্বামীর জন্য সহযোগিতা চাইলেন মেয়র প্রার্থীর সহধর্মীনী       খুলনা বিভাগীয় কমিশনার টুটুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন       নন্দীগ্রামে সবজির বাজারে স্বস্তি, চড়া চালের দাম       নতুন প্রেম – জে এস সাহাদত হোসেন সাহীন       নন্দীগ্রামে কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার    


আজ বাংলাদেশ ফুটবলের ভাগ্য নির্ধারণের ভোট

বিশেষ প্রতিনিধি, এসইটিভি নিউজ:

ঠিক যতটা জমজমাট হওয়ার কথা ছিল, ততটা জমজমাট হয়ে উঠতে পারেনি এবারের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন। টানা চতুর্থবারের মত সভাপতি প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিন। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবার রয়েছেন একাধিক প্রার্থী, অর্থাৎ সাবেক দুই ফুটবলার- বাদল রায় এবং শফিকুল ইসলাম মানিক।

কিন্তু কাজী সালাউদ্দিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে শুরু থেকেই দুর্বল ভেবে আসছেন বিশ্লেষকরা। সবচেয়ে বড় কারণ, বাকি দুই সভাপতি প্রার্থীই নির্বাচন করছেন এককভাবে, কোনো প্যানেল থেকে নয়। যদিও কাজী সালাউদ্দিন নিজে জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে তিনি কখনোই দুর্বল ভাবেন না।

বাদল রায় এবং শফিকুল ইসলাম মানিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের ফুটবলে পরিবর্তন চান সবাই। পত্রিকার পাতা, সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়াল- সর্বক্ষেত্রে একটাই আওয়াজ, পরিবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশের ফুটবলের ভাগ্য বদলাতে হলে এই পরিবর্তন না হলে হবে না। কিন্তু যে পরিবর্তন সবাই চান, সেই পরিবর্তন কি আদৌ সম্ভব?

কাজী সালাউদ্দিন নিজে এক সময়ের তুখোড় এবং দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তিনিও পরিবর্তনের আওয়াজ তুলে এসেছিলেন বাফুফের পরিচালনার দায়িত্বে। একটাই কৃতিত্ব তার, সারা বছর মাঠে ফুটবল রাখতে পেরেছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশের ফুটবলের আক্ষরিক কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

এ কারণে বাফুফেতে তার একযুগের একনায়কতন্ত্রের পরিবর্তন চান সবাই। কিন্তু যে সমন্বয় পরিষদ সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছে, সেই পরিষদের সভাপতি প্রার্থীই নেই। শেখ মোহাম্মদ আসলামের নেতৃত্বে তাদের সর্বোচ্চ প্রার্থী হচ্ছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি। যদিও নির্বাচনের আগেরদিন রাতে, হঠাৎই বাদল রায় নিজেকে সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তাতে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নড়চড় হবে কি না জানা নেই।

তবুও বোদ্ধারা মনে করছেন, প্রার্থী যেহেতু তিনজন এবং সবাই সাবেক তারকা ফুটবলার- এ কারণে এবার ব্যালটের লড়াইটা হবে অনেক বেশি। ফুটবলের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মাত্র ১৩৯ জনের হাতে। এরা সবাই এখন পাঁচ তারকা হোটেলে এক ছাদের নিচে। শুক্রবারই ভোটাররা উপস্থিত হয়ে গেছেন প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে। আজ সেখানেই ভোট। ব্যালটের মাধ্যমে আগামী চার বছর ফুটবল পরিচালনার দায়িত্ব যে কোনো একজনের কাঁধে তুলে দেবেন বাফুফের কাউন্সিলররা।

প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দিনের শুরুতে রয়েছে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। এর পর দুপুরে শুরু হবে ব্যালট বক্সে ভোটের লড়াই। রাত গড়াতেই জানা যাবে আগামী চার বছরের জন্য কারা আসছেন বাফুফে পরিচালনায়।

বাফুফে নির্বাচনে কাজী মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ ও শেখ মোহাম্মদ আসলামের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদ উভয় প্যানেলই জয়ের আশা ব্যক্ত করেছে। শুধু তাই নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে শফিকুল ইসলাম মানিক ও সহসভাপতি পদে তাবিথ আউয়ালও আত্মবিশ্বাসী। সভাপতি পদে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদল রায় ভোটের মাঠে থাকবেন না ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে লড়াইয়ে ফিরে এসে চমক লাগিয়ে দিয়েছেন।

আজ সকাল ১১টায় শুরু হবে বাফুফের এজিএম, বেলা ২টা থেকে শুরু হবে ভোট। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনার ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পান্ন করেছে। বাফুফে সেরেছে বার্ষিক সাধারণ সভার প্রস্তুতি।

বাফুফের নির্বাচনে ১৩৯ ভোটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৪ ভোট জেলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩ ভোট ক্লাবের। বিভাগের আছে ৮ ভোট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬, শিক্ষা বোর্ডের ৫ এবং একটি করে কোচেস অ্যাসোসিয়েশন, রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থার। এসব কাউন্সিলররাই বাফুফের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনে ভোটের মাধ্যমে রায় দেবেন।

জেনে নিন কোন প্রার্থী কোন প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন…

সম্মিলিত পরিষদ
সভাপতি : কাজী মো. সালাউদ্দিন।
সিনিয়র সহসভাপতি : আবদুস সালাম মুর্শেদী।
সহসভাপতি : কাজী নাবিল আহমেদ, আমিরুল ইসলাম বাবু, ইমরুল হাসান, আতাউর রহমান মানিক।
সদস্য : হারুনুর রশিদ, শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, সত্যজিৎ দাশ রুপু, ইলিয়াছ হোসেন, বিজন বড়ুয়া, অমিত খান শুভ্র, ইকবাল হোসেন, মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, মো. জাকির হোসেন, মাহফুজা আক্তার কিরণ, আসাদুজ্জামান মিঠু, কামরুল হাসান হিলটন, সৈয়দ রিয়াজুল করিম, ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ ও নুরুল ইসলাম নুরু।

সমন্বয় পরিষদ
সিনিয়র সহসভাপতি : শেখ মোহাম্মদ আসলাম।
সহসভাপতি: মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান ও এসএম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ।
সদস্য : আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন, মহিদুর রহমান মিরাজ, মনজুরুল আহসান, আ ন ম আমিনুল হক মামুন, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, আমের খান, হাজী মো. টিপু সুলতান, আরিফ হোসেন মুন, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, সৈয়দ মুস্তাক আলী মুকুল, মিজানুর রহমান, ফজলুর রহমান বাবুল, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, ও শাকিল মাহমুদ চৌধুরী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী
সভাপতি পদে
বাদল রায় ও শফিকুল ইসলাম মানিক।
সহসভাপতি পদে
তাবিথ আউয়াল
সদস্য পদে
হাজী মো. রফকি, সাখাওয়াত হোসনে ভূঁইয়া শাহীন, সাইফুর রহমান মনি।

এসইটিভি নিউজ/বার্তা বিভাগ


Top